ঢাকা, শুক্রবার ই-পেপার সংস্করণ

সংবাদ বার্তা

সত্য প্রকাশে নির্ভীক — প্রতিদিনের বাংলাদেশ

আরেক মোহাম্মদপুর হয়ে উঠছে পল্লবী

জাতীয় · 2026-09-07 04:00:08

পল্লবী কি ধীরে ধীরে আরেক মোহাম্মদপুরের পথে?

সন্ধ্যা নামলেই অলিগলিতে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট, মাদকের কারবার, অস্ত্রের মহড়া ও আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে উত্তেজনা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খুন, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি। সাম্প্রতিক অপরাধের রেকর্ড ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে—রাজধানীর পল্লবী ধীরে ধীরে এমন এক অপরাধচিত্রের দিকে এগোচ্ছে, যা একসময় মোহাম্মদপুরের পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে, প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের বসবাসের পল্লবী কি অপরাধ সাম্রাজ্যের পথে এগোচ্ছে?

জিম্মি কিশোর উদ্ধার, আটক একজন

সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা নতুন করে এই আশঙ্কাকে সামনে এনেছে। গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে মিরপুর বাংলা স্কুল এলাকায় পল্লবী ট্রাফিক জোনের এক পুলিশ সদস্যের সন্দেহে থামানো একটি অটোরিকশা থেকে জিম্মি অবস্থায় অর্ক নামে এক কিশোরকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় মোহাম্মদ রাব্বি (১৯) নামে একজনকে আটক করা গেলেও তার আরও তিন সহযোগী অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যায়।

ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন মনে হলেও গত কয়েক মাসের পল্লবীর অপরাধচিত্রের সঙ্গে এর মিল অস্বীকার করার সুযোগ কম। এ এলাকায় খুন, প্রকাশ্যে গুলি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধের খবর প্রায় নিয়মিতই সামনে আসছে।

মাদক, অস্ত্র ও আধিপত্যের সংঘাত

গত ৭ আগস্ট মিল্লাত ক্যাম্পে সিনেমার স্টাইলে গুলি চালানোর ঘটনায় এক পথচারী নারীসহ দুজন আহত হন। পরে ডিবি পুলিশ ল্যাংড়া রুবেলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।

তাদের কাছ থেকে পিস্তল, গুলি, ম্যাগাজিন, এক হাজার ইয়াবা ও দুটি গাড়ি উদ্ধারের কথা জানানো হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক বিক্রির ১৫ লাখ টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ থেকেই ওই হামলার সূত্রপাত।

এর আগে একাধিক মামলার আসামি ‘টান আকাশ’ গ্রেপ্তার, কথিত ‘ভইরা দে’ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনাও সামনে এসেছে।

ফলে পল্লবীর অপরাধচিত্রে বারবার একই সমীকরণ দেখা যাচ্ছে—মাদক, অর্থ, অস্ত্র ও আধিপত্য।

শিক্ষক থেকে অবুঝ শিশু—হত্যার ঘটনাও বাড়ছে

পল্লবীর অপরাধচিত্র শুধু মাদক ও সন্ত্রাসে সীমাবদ্ধ নেই। ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডও ঘটেছে এ এলাকায়।

গত ১৭ এপ্রিল পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশনের ‘ডি’ ব্লকের একটি বাসা থেকে প্রবীণ স্কুলশিক্ষিকা ফিরোজা খানম জোছনার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় ভারী হাতুড়ি দিয়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

এর এক মাস না যেতেই ১৯ মে ১১ নম্বর সেকশনের ‘বি’ ব্লকে ঘটে আরেক মর্মান্তিক ঘটনা। আট বছর বয়সী রামিসা আক্তারকে যৌন নির্যাতনের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়। পুলিশ ও সিআইডির তদন্তে প্রতিবেশী সোহেল রানার নাম উঠে আসে এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

আধিপত্যের রাজনীতি ও প্রকাশ্য গোলাগুলি

গত ২৫ মে বাউনিয়াবাদ এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্রের বাড়ি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে হামলা ও মারধরের ঘটনায় ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির অভিযোগও তুলেছিলেন স্বজনরা।

এরপর ১০ জুন ১২ নম্বর সেকশনের এভিনিউ-৫ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ‘ল্যাংড়া রুবেল’ ও ‘টান আকাশ’ চক্রের মধ্যে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনসহ তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে।

এতে হৃদয় ওরফে গন্ডার নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন এবং আবদুল্লাহ নামে এক তরুণকে অপহরণ করা হয়।

পরে ১৬ জুন সাভারের হেমায়েতপুর থেকে ১৩ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি আকাশ ওরফে ‘টান আকাশ’কে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪।

একই দিনে বিহারি পল্লি এলাকায় সিটিটিসির পৃথক অভিযানে সাত হাজার ইয়াবাসহ সাদ্দাম নামে এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মিল্লাত ক্যাম্পে গুলির ঘটনায় মাদকের টাকা

৭ আগস্ট ১১ নম্বর সেকশনের মিল্লাত ক্যাম্পের একটি চা-দোকানে বসে থাকা বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে লক্ষ্য করে লাল রঙের একটি প্রাইভেটকার থেকে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়।

আলমগীরের মাথা ও পিঠে গুলি লাগে। পাশে থাকা জ্যোৎস্না নামে এক পথচারী নারীও গুলিবিদ্ধ হন।

পরে ১০ আগস্ট সাভার, গাজীপুর ও কুষ্টিয়ায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ মূল শুটার রুবেল ওরফে ‘ল্যাংড়া রুবেল’ এবং তার চার সহযোগী—বাপ্পা, মাখন, পারভেজ ও রাব্বিকে গ্রেপ্তার করে।

তাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন ও এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা জানানো হয়।

ডিবির তদন্তে উঠে আসে, মাদকের ১৫ লাখ টাকা ভাগাভাগি এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই ওই সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল।

রিকশাচালক থেকে ‘ক্যাডার’ রুবেল

পুলিশ ও স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘ল্যাংড়া রুবেল’ ২০১১ সালে চুরি ও ছিনতাইয়ের মাধ্যমে অপরাধ জগতে প্রবেশ করে। পরে তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ এক ডজনের বেশি মামলা হয়।

কয়েক বছর আগে পল্লবীর ‘ডি’ ব্লকে ছিনতাইয়ের সময় পুলিশের গুলিতে তার এক পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর সে অটোরিকশা চালানো শুরু করলেও সেটি ছিল অনেকটা ছদ্মবেশ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রুবেলের প্রভাব আরও বাড়ে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

তার ভাই বাপ্পা মাদক সিন্ডিকেটের ‘ম্যানেজার’ হিসেবে কাজ করত বলে জানা যায়। পল্লবীর ৩৯টি বিহারি ক্যাম্প, বাউনিয়া বাঁধ, কাফরুল ও মিরপুর ১০-১১ এলাকা মিলিয়ে দুই শতাধিক গোপন স্পটে ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজার সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে নেমে রুবেল পরে বিলাসবহুল গাড়িতে চলাফেরা এবং ভারী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রভাব বিস্তার করত বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

পল্লবীতে ১৪ কিশোর গ্যাং

পল্লবীর নিরাপত্তাহীনতার অন্যতম কারণ হিসেবে তরুণদের অপরাধে ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, মহানগরীর ৫০ থানায় সক্রিয় কিশোর গ্যাং রয়েছে ১১৮টি। এর মধ্যে মিরপুর ও তেজগাঁও বিভাগে সংখ্যা বেশি।

মিরপুর বিভাগের সাত থানায় সক্রিয় ৩২টি গ্রুপের মধ্যে পল্লবী এলাকায় রয়েছে ১৪টি।

গত ১৭ জুন আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘ভইরা দে’র সদস্য শিশির আহম্মেদ ইমন, আবদুল্লাহ ও আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পারভেজসহ আরও কয়েকজন সদস্য গ্রেপ্তার হলে গ্রুপটির মোট ১০ সদস্য আইনের আওতায় আসে।

তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও প্রকাশ করে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করত বলে অভিযোগ রয়েছে।

ছিনতাই এখন যেন নিত্যদিনের ঘটনা

৪ জুলাই বাউনিয়াবাদ থেকে ১০ মামলার আসামি ছিনতাইকারী মুন্না ওরফে ‘রেড মুন্না’কে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর ৫ ও ৬ জুলাই কিশোর গ্যাং ‘ভইরা দে’র পারভেজসহ আরও ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কালশী মোড়, মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১২ এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাইয়ের ঘটনাও প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠেছে।

জুনে অন্তত তিনবার ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় ছিনতাইকারী হাতেনাতে ধরা পড়ে। এর মধ্যে ১৯ জুন কালশী মোড়ে চলন্ত মাইক্রোবাস থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে পালানোর সময় একজনকে আটক করা হয়।

১৮ জুন মিরপুর-১০ এলাকায় আরমানকে এবং ১৫ জুলাই বনলতা সুইটসের সামনে রিমন নামে এক ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়।

সবশেষ ১ সেপ্টেম্বর রাতে মেট্রোরেলের ২২২ নম্বর পিলারের কাছে জিম্মি কিশোর অর্ককে উদ্ধার এবং রাব্বি নামে একজনকে আটক করে পল্লবী ট্রাফিক পুলিশ।

চাঁদাবাজদের দাপট

গত ২২ জুলাই বাউনিয়াবাদ মসজিদ মার্কেট এলাকায় রামদা-চাপাতি নিয়ে দোকানে তাণ্ডব চালিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ ওঠে।

এ ছাড়া বাড়ি নির্মাণ ও জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে।

বিহারি ক্যাম্পের ৩ নম্বর লাইনে মাদকের টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ‘পেপার সানি’কে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে লালমাটি টেম্পোস্ট্যান্ডে দুই পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নিরীহ গৃহবধূ আয়েশা আক্তার প্রাণ হারান।

গ্যাং কালচার ও বখরার বলি হয়ে ফয়সাল ও পাভেল নামে আরও দুই তরুণের প্রাণহানির ঘটনাও সামনে এসেছে।

পুলিশের তালিকায় ১৭ মাদক স্পট, ১৭ প্রধান ডিলার

ডিএমপি সদর দপ্তরের হালনাগাদ তথ্যে পল্লবী থানা এলাকায় মাদকের ১৭টি স্পট এবং ১৭ জন চিহ্নিত ডিলারকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে শতাধিক খুচরা বিক্রেতা কাজ করে বলে তথ্য রয়েছে।

১১ নম্বর সেকশনে—মিল্লাত ক্যাম্প ও ‘বি’ ব্লকে—রাজিয়া খাতুন (৪৫) ও নাটা জুম্মন (৩৫) মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করেন বলে পুলিশের তালিকায় উল্লেখ রয়েছে।

বাউনিয়া বাঁধ ও ‘এ’ ব্লকে ফাতেমা বেগম ওরফে ফতেহ (৪৩), ১১ নম্বর সেকশনের ‘ডি’ ব্লক ও এডিসি ক্যাম্পে ল্যাংড়া রুবেল (৩৬) ও শাহজামান ওরফে সাবু (৩১) এবং ১২ নম্বর সেকশনে শাহনাজ (৪৪), হালিমা ওরফে নাজ খাতুন (২৬) ও রুমা (৪৩)-এর নাম রয়েছে।

এ ছাড়া অন্যান্য স্পটে লাভলি বেগম, নাদিম, জুম্মন, বট রনি, রজনী আক্তার, শারমিন, শাহিনুর, বিনা সুন্দরী ও আফসানা ওরফে পুতুলের নামও তালিকায় রয়েছে।

মিল্লাত ক্যাম্পের সরু গলিতে প্রতিদিন বিকেলে মাদকের বাজার বসে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ক্রেতাদের সেখানে ‘বান্ধা কাস্টমার’ নামে ডাকা হয়।

অভিযানের পরও ফিরে আসে অপরাধীরা

মে মাসে পল্লবীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুই দফায় ৫২ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, জামিনে বের হয়ে অনেকেই আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। ফলে শুধু গ্রেপ্তার নয়, অপরাধীদের অর্থের উৎস ও নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়ার দাবি উঠেছে।

সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণ

গত ২৯ আগস্ট পল্লবীর বিহারি ক্যাম্পে লাশ গোসলের ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়।

পানির পাম্প বসানো নিয়ে বিরোধ থেকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং ঘটনাস্থলে গুলির খোসা পাওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়।

ঘটনাটি সরাসরি মাদকচক্রের সংঘর্ষ না হলেও সামান্য বিরোধ কীভাবে দ্রুত বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে, তার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে ঘটনাটি সামনে এসেছে।

পল্লবী কি দ্বিতীয় মোহাম্মদপুর হচ্ছে?

পল্লবীর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি অনেকাংশে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সাম্প্রতিক অপরাধচিত্রের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

দুই এলাকাতেই খুন, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে।

ডিএমপির তালিকায় মোহাম্মদপুরে ১৬টি এবং পল্লবীতে ১৪টি কিশোর গ্যাং থাকার তথ্যও এই তুলনাকে আরও জোরালো করছে।

এলাকাবাসীর মতে, পল্লবীর প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের নিরাপত্তার জন্য শুধু সাময়িক টহল বা দু-একজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা যথেষ্ট নয়।

তাদের দাবি, পল্লবীকে দ্বিতীয় ‘মোহাম্মদপুর’ হওয়ার আগেই মাদকঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত অভিযান জোরদার করতে হবে।

বিশ্লেষকের চোখে তিন স্তরের অপরাধ

বিশ্লেষক লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম বলেন, পল্লবীর ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে তিনটি স্তর চোখে পড়ে।

প্রথমত, অর্থের উৎস—মাদক কারবার ও চাঁদাবাজি।

দ্বিতীয়ত, অপরাধ সংগঠনের কাঠামো—কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ।

তৃতীয়ত, প্রভাব বিস্তারের উপকরণ—অস্ত্র, ভয়ভীতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও প্রকাশ্য সহিংসতা।

তার মতে, এই তিনটি স্তর যখন একই এলাকায় বারবার দেখা যায়, তখন অপরাধকে শুধু ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না।

তিনি বলেন, পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে ঠিকই; কিন্তু অর্থের উৎস ও অপরাধের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া না গেলে একই চক্র আবার ফিরে আসার আশঙ্কা থেকেই যায়।

পুলিশের বক্তব্য

পুলিশের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক শাহাদাত হোসাইন বলেন, যেখানেই অপরাধ ঘটছে, দ্রুততার সঙ্গে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। রাজধানীতে নিয়মিত অভিযান চলছে।

তার ভাষ্য, অপরাধ করে কেউ রেহাই পাবে না।

শেষ কথা

পল্লবীর সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। মাদক, অস্ত্র, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি জটিল অপরাধচিত্র তৈরি করছে।

এখন বড় প্রশ্ন—পল্লবী কি সময় থাকতে এই অপরাধচক্র ভাঙতে পারবে, নাকি ধীরে ধীরে রাজধানীর আরেক ‘মোহাম্মদপুর’ হিসেবে পরিচিত হবে?