‘খুনিরা হাদিকে হত্যা করেছে, তার চিন্তা ও আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি’
‘খুনিরা ওসমান হাদিকে হত্যা করেছে, তাঁর চিন্তা-আদর্শকে নয়’
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন হার না-মানা এক বীর, যিনি জুলাইয়ের পূর্ববর্তী সময় থেকে পরবর্তী সময় পর্যন্ত দেশের পুনর্গঠনের জন্য মৃত্যু অবধি প্রাণপণ লড়াই করে গেছেন। তাঁর বক্তব্য ও চিন্তার মধ্যে দেশ গঠন এবং জাতিকে আবার শ্রেষ্ঠত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত করার আকাঙ্ক্ষা বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির বক্তব্য সংকলন ‘বারুদমাখা কথামালা’ বইয়ের বাণীতে এ কথা বলেন মহিউদ্দিন খান। ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ সংকলনটি সম্পাদনা করেছেন।
ভিন্নমতকে যুক্তি দিয়ে পর্যালোচনা
মহিউদ্দিন খান বলেন, বিরোধী মত, রাজনৈতিক দল কিংবা ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষের অবস্থান—বিএনপি, জামায়াত কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল; হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রিস্টান কিংবা ডান-বাম—সবার মত ও অবস্থানকে ওসমান হাদি তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে যৌক্তিকভাবে পর্যালোচনা করেছেন।
তবে তাঁর পর্যালোচনায় কখনো হিংসাত্মকতা বা আক্রমণাত্মক মনোভাব ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মহিউদ্দিন খান বলেন, তিনি যুক্তির জবাব যুক্তি দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং তাঁর বক্তব্যকে যুক্তির মাধ্যমে মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন।
দেশ গঠন ছিল চিন্তার কেন্দ্রে
ওসমান হাদির প্রতিটি কথায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে দেশ গঠন এবং জাতি কীভাবে আবার শ্রেষ্ঠত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারে—সেই চিন্তা।
মহিউদ্দিন খানের ভাষায়, তাঁর প্রতিটি কথামালার মধ্যে এমন শিক্ষা রয়েছে, যা ধারণ করতে পারলে প্রত্যেক মানুষ নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলতে পারে।
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান
ডাকসুর এজিএস বলেন, শহীদ ওসমান হাদির কথামালার চর্চা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর চিন্তা ও বক্তব্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, খুনিরা শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যা করেছে, কিন্তু তাঁর লেখা, চিন্তা ও আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি।
তাঁর মতে, এসব লেখা ও চিন্তার চর্চা অব্যাহত রাখা গেলে শতবর্ষ পরেও, এমনকি শতাব্দীর পর শতাব্দী ওসমান হাদি মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন।
‘বারুদমাখা কথামালা’
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির বক্তব্য নিয়ে প্রকাশিত ‘বারুদমাখা কথামালা’ সংকলনে তাঁর চিন্তা, বক্তব্য ও দেশ গঠনের আকাঙ্ক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
সংকলনটির মাধ্যমে তাঁর বক্তব্য ও চিন্তাধারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।