ঢাকা, শুক্রবার ই-পেপার সংস্করণ

সংবাদ বার্তা

সত্য প্রকাশে নির্ভীক — প্রতিদিনের বাংলাদেশ

স্পেয়ার পার্টসের নামে কনটেইনারে মিলল ১২ কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি

বাণিজ্য · 2026-09-06 15:05:10

‘Used Spare Parts’ ঘোষণায় এল বিলাসবহুল গাড়ির যন্ত্রাংশ, মূল্য ১২ কোটি টাকা

‘Used Spare Parts’ ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা একটি কনটেইনারে মিলেছে Lexus LX 600, Lexus SC 430 ও BMW M5-এর বিভিন্ন অংশ। প্রাথমিক হিসাবে চালানটির আনুমানিক বাজারমূল্য ৯ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১২ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এনবিআর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে চালানটি শনাক্ত করেন।

কনটেইনার খুলে মিলল বিলাসবহুল গাড়ির অংশ

‘Used Spare Parts’ ঘোষণায় আনা কনটেইনারটি খুলে এর ভেতরে Lexus LX 600, Lexus SC 430 ও BMW M5-এর বিভিন্ন অংশ পাওয়া যায়।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চালানটি বন্দরে পৌঁছানোর পর প্রায় এক মাস বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়নি। পরে নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চালানটি খালাসের চেষ্টা করা হচ্ছিল।

কাস্টমস গোয়েন্দাদের অভিযানে সেই চেষ্টা প্রতিহত করা হয়।

পূর্ণাঙ্গ গাড়ির বৈশিষ্ট্য রয়েছে কি না, চলছে পরীক্ষা

এনবিআর জানিয়েছে, উদ্ধার করা গাড়ির অংশগুলো পূর্ণাঙ্গ গাড়ির ‘Essential Character’ বা মৌলিক বৈশিষ্ট্য বহন করে কি না, তা বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি Honda B18C Type R Engine, Front Half/Half-cut এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশও যাচাই করা হচ্ছে।

বাজারমূল্য ১২ কোটি টাকা পর্যন্ত

প্রাথমিক হিসাবে, উদ্ধার করা চালানটির সম্মিলিত আনুমানিক বাজারমূল্য ৯ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১২ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

তবে বিস্তারিত পরীক্ষা ও যাচাই শেষে এর প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

অর্থ লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

এ ঘটনায় চালানটির আমদানি মূল্য, অর্থ পরিশোধের তথ্য, সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক দলিল এবং লেনদেনের ধরন যাচাই করা হচ্ছে।

এর সঙ্গে সম্ভাব্য মানি লন্ডারিংয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কারা জড়িত, চলছে তদন্ত

বিলাসবহুল গাড়িগুলোকে যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আমদানি এবং পরে নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খালাসের এই প্রচেষ্টার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে চালানটির প্রকৃত পরিচয়, আমদানির উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।